নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ | 33 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে ভালো ও মানসম্পন্ন কোম্পানি আনতে বিদ্যমান আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বর্তমানে আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে মাসুদ খানকে বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। পরে বিকেলে বিএসইসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তালিকাভুক্তির সুবিধা স্পষ্ট করতে হবে
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ খান বলেন, তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো কী ধরনের সুবিধা পাবে, তা তাদের কাছে পরিষ্কার করে বোঝাতে হবে। তারা যদি তালিকাভুক্তির সুবিধাগুলো উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে বাজারে আসতে আরও আগ্রহী হবে। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে অনেক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হয়নি।
সরকারি কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কেবল কথা নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান তারা। ভবিষ্যতে কী করা যায়, সেটি সময়ই বলে দেবে।
করের সুবিধা ও নীতিগত সমন্বয়ে জোর
তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান বাড়ানোর প্রশ্নে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা অপরিহার্য। অনেক বিষয় রয়েছে যা সরাসরি একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় ছাড়া বাজারের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি মনে করেন, ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব নীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হবে।
আগের কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য
কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইন যা নির্দেশ করবে, কমিশন সেটাই অনুসরণ করবে।
গল্প নয়, কাজ দিয়েই মূল্যায়ন
সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের উত্তরে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের কমিশনগুলোর নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সমালোচনা তিনি শুনেছেন। তবে বর্তমান কমিশনকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। এটি তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কী বলছি তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কী করি। এক বছর পর যদি দেখেন কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই, তখন সমালোচনা করবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই আমাদের ব্যর্থ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের নানা সমস্যা সম্পর্কে তার দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। লাফার্জহোলসিম সিমেন্টের (তৎকালীন) প্রধান অর্থকর্মী হিসেবে দেশের অন্যতম বড় আইপিও পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফলে বাজারের মধ্যস্থতাকারী ও অংশীজনদের সমস্যাগুলো তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জানেন।
জবাবদিহি ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন বা সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন। তবে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল নেতিবাচক খবর নয়, ইতিবাচক উন্নয়নগুলোর প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ বাজারে অতিরিক্ত নেতিবাচক বার্তা অনেক সময় আস্থা সংকটের সৃষ্টি করে।
স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর অঙ্গীকার
কমিশনের সদস্যদের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের সদস্যরা বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্র থেকে এসেছেন। তাই কিছু ক্ষেত্রে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, যদি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে যায়, তাহলে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই তা তুলে ধরবেন।
তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বাড়বে
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ কোম্পানি ও তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, কমিশনের কার্যক্রমে আরও বেশি স্বচ্ছতা আনা হবে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ বাড়ানো হবে, যাতে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। তিনি জানান, তদন্ত কার্যক্রম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইএফআরএস অনুযায়ী প্রভিশন নিশ্চিতের আশ্বাস
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) অনুযায়ী প্রভিশনিং না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, এ ব্যাপারে আরও স্বচ্ছতা আনা হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে আইএফআরএস অনুযায়ী যথাযথ প্রভিশনিং হয়েছে কি না, তা প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
Posted ৬:৪২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.